হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, স্বাধীনতার স্থপতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উনার জীবদ্দশায় একটি সেক্টরেই চাকরি করেছেন সেটি হচ্ছে বীমা সেক্টর। এই সেক্টর এর সদস্য হতে পেরে আমরাও গর্বিত। বঙ্গবন্ধুর কর্মজীবন এর একটি প্রমাণ পত্র আই.ডি.আর.এ এর মাধ্যমে হাতে পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। "বীমায় সুরক্ষিত থাকলে,এগিয়ে যাব সবাই মিলে "
Saturday, 5 March 2022
বিমার সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমা খাতের আরও উন্নয়নে জনগণের মধ্যে সচেতনতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে আজ মঙ্গলবার জাতীয় বিমা দিবসের উদ্বোধন করেছেন।
আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি দিবসটির উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বিমা খাতকে ডিজিটালাইজড করাসহ জনপ্রিয় করে এর সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।
‘বিমায় সুরক্ষিত থাকলে, এগিয়ে যাব সবাই মিলে’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে এবার দিবসটি পালিত হচ্ছে।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) যৌথভাবে এ দিবসের আয়োজন করে।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইডিআরএর চেয়ারম্যান এম মোশাররফ হোসেন এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি শেখ কবির হোসেন।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ বিমা খাতে অসামান্য অবদান রাখার জন্য পাঁচজনকে ‘বিমা পদক’ এবং দুই প্রতিবন্ধী শিশুকে ‘বঙ্গবন্ধু সুরক্ষা বিমা পলিসি’ প্রদান করেন।
বিমা খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সাবেক সাংসদ ও বিমা ব্যক্তিত্ব মকবুল হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমানকে মরণোত্তর সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
বিমা খাতের উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য বিমা ব্যক্তিত্ব শেখ কবির হোসেন ও নাসির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীকে পুরস্কৃত করা হয় এবং সরকারের সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম খানকেও বিমা খাত ও বঙ্গবন্ধুর অবদানের ওপর একটি তথ্যচিত্র নির্মাণে অবদানের জন্য পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিমা খাতের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
১৯৬০ সালের ১ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন আলফা ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন। তাই সরকার প্রতিবছর ১ মার্চকে জাতীয় বিমা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কালের মহানায়ক, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে ‘জাতীয় বিমা দিবস’কে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করেছে সরকার।
মোটরবিমা থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা আসতে পারে
সরকার ২০১৮ সালে যেভাবে মোটর আইন প্রণয়ন করেছে, তাতে মোটর বিমা ব্যবসায়ের ওপর কুঠারাঘাত করা হয়েছে। বিমাকারীরা এখন মর্মে মর্মে তা উপলব্ধি করছেন। এ বিষয়ে আলোচনার শেষ নেই, কিন্তু সমাধানের উদ্যোগ নেই।
বিমাকারীরা প্রায়ই বলেন, ‘মোটর তৃতীয় পক্ষের দায়’ বা থার্ড পার্টি ইন্স্যুরেন্সের ব্যবসা খুব ভালো ছিল। কারণ, কোনো দাবি উত্থাপিত হতো না। বিমাকারীদের বিশ্বাস হচ্ছে, কোনো প্রকার দাবি না হলেই বিমা ব্যবসা ভালো হয়-কী মারাত্মক, ভয়াবহ ও ভ্রান্তিমূলক! মোটর বিমা ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি হচ্ছে জনগণের আস্থা। বিমাকারীদের মধ্যে এ আস্থা অর্জনের কোনো চেষ্টাই দেখা যায় না।
উল্লেখ্য, কোনো যানবাহনের কারণে কোনো ব্যক্তি যদি আহত বা নিহত হয়, অথবা যদি কোনো সম্পদের বা অন্য গাড়ির ক্ষতি হয়, তার ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য এই তৃতীয় পক্ষের বিমা করা হতো। অর্থাৎ চালক বা যাত্রীর বাইরে যে ক্ষতি হয়, সেটার ক্ষতিপূরণের জন্য ছিল এই বিমা। কিন্তু বাংলাদেশে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-তে যানবাহনের ক্ষেত্রে এই বিমা করার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়নি। সেই আইনের সঙ্গে সংগতি রেখে এই বিমা বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
শুধু একজন নাগরিকের অবহেলা বা গাফিলতির কারণে যদি অন্য কোনো নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হন, সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। এ ধরনের বিধিবদ্ধ ব্যবস্থাই হচ্ছে মোটর তৃতীয় পক্ষের দায় পলিসি। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই নাগরিকেরা এ ধরনের পলিসি কেনেন।
কিন্তু রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক যদি রাস্তায় দুর্ঘটনাকবলিত হন বা দুর্ঘটনার কারণে কারও মৃত্যু হয়, তাহলে কোনো রাষ্ট্র তার ক্ষতিপূরণের দায় থেকে অব্যাহতি পেতে পারে না। রাষ্ট্রের এই দায়দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই সরকার থেকে নিবন্ধন নিয়ে বিমাকারীরা নাগরিকদের ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দেয়।
বাংলাদেশের সাধারণ বিমাব্যবস্থা ও বিমা ব্যবসার পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, আমরা কতটা লোভী ও অপরিণামদর্শী। ২০১৮ সালের মোটর আইন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নানা মত উঠে আসে যা বিভ্রান্তিকর। প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্র কোনো অবস্থায় নাগরিকের ব্যক্তিগত আয়-ব্যয় ও ব্যক্তিগত আর্থিক ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
শুধু একজন নাগরিকের অবহেলা বা গাফিলতির কারণে যদি অন্য কোনো নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হন, সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। এ ধরনের বিধিবদ্ধ ব্যবস্থাই হচ্ছে, মোটর তৃতীয় পক্ষের দায় পলিসি। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই নাগরিকেরা এ ধরনের পলিসি কেনেন। অথচ বাংলাদেশের বিমাকারীরা দিবাস্বপ্নে বিভোর থাকেন, এ ধরনের পলিসি ভালো কারণ, এ ক্ষেত্রে বিমাকারীদের দাবি দিতে হয় না।
মোটর বিমা ব্যবসা লাভজনক করতে ও মানুষের আস্থা বাড়াতে আমার ছয়টি পরামর্শ আছে। এগুলো হচ্ছে-
১. তৃতীয় পক্ষের দায় বিমা আবার আবশ্যিকভাবে চালু করা। সেই সঙ্গে মোটরচালক ও চালকের সহকারীদের (কন্ডাক্টর) জন্য পেশাগত দুর্ঘটনা বিমা চালু করা। শুধু এ তিন পলিসি থেকেই আয় হতে পারে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার প্রিমিয়াম।
২. পলিসির প্রিমিয়াম বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের একই জাতীয় পলিসির জন্য নির্ধারিত প্রিমিয়ামের হার বিবেচনা করা যেতে পারে।
৩. তিনটি পলিসি জনপ্রিয় করতে ব্যাপকভাবে সারা দেশে প্রচার করতে হবে। বড় বড় বাসস্ট্যান্ডে বিমা প্রতিনিধিদের নিয়ে অন্তত তিন বছর ধরে প্রচারণা ও সচেতনতামূলক আলোচনা কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
৪. পলিসিগুলো ব্যাপকভাবে সমাদৃত না হওয়া পর্যন্ত দেশের ঘটে যাওয়া সব দুর্ঘটনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও মৃত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণের জন্য একটা কমিশন গঠন করা দরকার এবং ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা জরুরি। এক্স গ্র্যাসিয়া নীতির ভিত্তিতে এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা জরুরি, কারণ এসব ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতার চেয়ে নৈতিক মানদণ্ড বেশি জরুরি।
৫. সরকারি তহবিল থেকে যে অর্থ হাজার হাজার মোটর দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারকে দেওয়া হবে, তা আবশ্যিকভাবে বাংলাদেশ বিমা অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) ব্যানারে প্রদান করতে হবে, তার প্রচার থাকতে হবে। এতে বিমার প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
৬. মোটর বিমার প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে বিভাগীয় শহরগুলোতে একটি করে মোটর বিমা দাবি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা জরুরি।
এ ধরনের ট্রাইব্যুনাল মোটর দুর্ঘটনাসহ সব ধরনের দুর্ঘটনাসংক্রান্ত বিমা দাবি এবং দেওয়ানি বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পারবে। তবে এই মোটর ট্রাইব্যুনাল অবশ্যই দেশের প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও টেক্স অফিস ট্রাইব্যুনালের মতো পৃথক বিচারিক ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে উঠবে। এ ব্যাপারে সরকার ভারতসহ অন্যান্য দেশের দুর্ঘটনা সম্পর্কিত মামলা নিষ্পত্তির ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করতে পারে।
আমি বিশ্বাস করি, অর্থ মন্ত্রণালয়, বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) ও বিআইএ পরিকল্পনামাফিক এগোলে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার প্রিমিয়াম বিমা ব্যবসায় যোগ হবে। তবে সে জন্য মোটর কম্প্রিহেনসিভ পলিসি, মোটর থার্ড পার্টি পলিসি, মোটর ড্রাইভার্স রিস্কস পলিসি, মোটর ভেহিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট পলিসি-এগুলো জনপ্রিয় করতে হবে, অর্থাৎ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। তবে ব্যাপারে আরও ব্যাপক আলোচনা ও গবেষণা শুরু করা জরুরি।
প্রমীলা ডিপিএস’ একটি বিমা পলিসির নাম
সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা মাসিক জমা দিয়ে প্রমীলা ডিপিএস করা যায়। তবে বয়সের একটা বিষয় রয়েছে এতে। এ ডিপিএসের গ্রাহক হতে গেলে সর্বনিম্ন বয়স হতে হবে ১৮ বছর। আর সর্বোচ্চ বয়স ৫৫ বছর। এ বিমার মেয়াদ পূর্তিকালীন বয়স কখনোই ৬০ বছরের বেশি হবে না বলে সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
প্রমীলা ডিপিএসের প্রিমিয়াম দিতে হবে মাসিক কিস্তিতে। তবে কেউ যদি মনে করেন এক বছরের প্রিমিয়াম একবারে জমা দেবেন, সেই সুযোগও রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবপত্র হিসেবে একটি ফরম পূরণ করেই এ পলিসির গ্রাহক হওয়া যায়। প্রস্তাবপত্রে থাকবে ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র ইত্যাদি সাধারণ কিছু তথ্য। তবে প্রস্তাবপত্রের সঙ্গে বয়স প্রমাণের দলিল দাখিল করতে হবে। থাকতে হবে নমিনি বা মনোনীত ব্যক্তির নাম ও ছবি। এ ডিপিএসে ডাক্তারি পরীক্ষার কোনো প্রতিবেদন দিতে হবে না।
জেবিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কর্মসূচিটির প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়ছে। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পাঁচ বছরের জন্যও করা যায়। অনেকে কম সময়ের জন্য পলিসি চান, তাই এ ধরনের পলিসি করা হয়েছে।
গত শনিবার এ পলিসির একজন গ্রাহকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, পলিসিটি ভালো। তবে এটি নিয়ে জেবিসির কোনো প্রচারণা নেই। আবার প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের মধ্যেও এই পলিসির গ্রাহক বৃদ্ধি নিয়ে কোনো তাগিদ নেই।
মেয়াদ শেষে বিমা করা টাকা লাভসহ গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া হয়। তবে বিমা গ্রহীতার অকালমৃত্যু হলে বিমা করা টাকা লাভসহ দেওয়া হয় মনোনীত ব্যক্তিকে। আরেকটি সুবিধা হচ্ছে, প্রিমিয়ামের ওপর আয়কর রেয়াত রয়েছে। যদিও বড় অঙ্কের ক্ষেত্রে আয়কর রেয়াত দেওয়া হয় না।
জেবিসির উপমহাব্যবস্থাপক মো. লিয়াকত আলী খান বলেন, পলিসিটি চালুই করা হয়েছে নারীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতায়ন এবং বিমা নীতির গুরুত্ব অনুধাবন করে। এ ডিপিএসের আওতায় প্রতি ১ হাজার টাকায় ২০ টাকা করে বোনাস দেওয়া হয়।
জেবিসির আটটি আঞ্চলিক, ১২টি করপোরেট, ৮১টি সেলস এবং ৪৫২টি শাখা কার্যালয়ে গিয়ে যে কেউ প্রমীলা ডিপিএসের নানা দিক সম্পর্কে জানতে পারবেন। অফিসে গিয়ে নগদ টাকায় পলিসির প্রিমিয়াম জমা দেওয়া যায়, এ সুযোগ সব সময়ই রয়েছে।
এদিকে মুঠোফোনে আর্থিক সেবা দাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’-এর মাধ্যমে জেবিসির প্রায় সব পলিসির প্রিমিয়ামই জমা দেওয়া যায়। নগদ ও নগদ অ্যাপের মাধ্যমে প্রমীলা ডিপিএসের প্রিমিয়াম দেওয়ার সুযোগও তৈরি করে রেখেছে জেবিসি। প্রথমে বিল পে বাটনে ক্লিক করে বিলার আইডি সিলেক্ট করতে হবে। এর পর টাইপ করতে হবে পলিসি নম্বর ও টাকার পরিমাণ। এর পর পিন টাইপ শেষে ট্যাপ করে ধরে রাখলে টাকা জমা হওয়ার একটি নোটিফিকেশন আসে। সব শেষ ধাপে পাওয়া যায় বিল পে রসিদ।
বেসরকারি খাত ছাড়া বিমায় ভালো কিছু সম্ভব নয়
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এম মোশাররফ হোসেন গত রোববার প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিমা খাতের নানা দিক তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফখরুল ইসলাম।
প্রথম আলো: তৃতীয় জাতীয় বিমা দিবসকে সামনে রেখে বিমা খাতকে কোথায় দেখতে পাচ্ছেন? বাংলাদেশ কি কোনো সুখকর জায়গায় আছে?
এম মোশাররফ হোসেন: দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় বিমা খাতের প্রিমিয়াম আয় এখনো ১ শতাংশের কম। তবে এটা সত্য যে জিডিপির আকার যেভাবে বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না বিমা খাত। জীবনবিমার প্রিমিয়াম আয় সাড়ে নয় হাজার এবং সাধারণ বিমার প্রিমিয়াম আয় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। আমরা বিমার আওতা বৃদ্ধির দিকে নজর দিচ্ছি। কত বেশি মানুষকে বিমার গ্রাহক করা যায়, সেটাই আমাদের এখন অন্যতম কাজ।
প্রথম আলো: অন্যতম কাজ করার জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
মোশাররফ হোসেন: প্রথমেই আমরা ব্যাংকান্স্যুরেন্স বাস্তবায়নে নজর দিচ্ছি। এটা হয়ে গেলে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সমাজের বড় একটা অংশ বিমার আওতায় চলে আসবে। বর্তমানে জীবনবিমায় প্রায় ২ কোটি ও সাধারণ বিমায় ৩০ লাখ গ্রাহক আছেন। আর ব্যাংকে রয়েছেন প্রায় ১০ কোটি হিসাবধারী। তাদের অর্ধেককেও যদি বিমার আওতায় আনা যায়, তাহলে প্রিমিয়াম আয় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। ব্যাংকান্স্যুরেন্স হলে পলিসি বাতিল হওয়ার আশঙ্কাও কমবে। আর অনলাইনের মাধ্যমে বিমা পণ্য বিক্রির আয়োজন করা আমাদের দ্বিতীয় প্রধান কাজ। ঘরে বসে তখন প্রিমিয়ামের টাকা দেওয়া যাবে, সব হিসাবও দেখা যাবে। তৃতীয়ত করপোরেট এজেন্ট এবং চতুর্থত ব্রোকার পদ্ধতি চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি। এ কয়েকটি কাজ হয়ে গেলেই বিমা খাতের উল্লেখযোগ্য অবদান দৃশ্যমান হবে।
এখনো অবিকশিত বিমা খাত
অনেক সম্ভাবনার বিমা খাত এখনো অনিয়ন্ত্রিত ও অবিকশিত। এ খাতের মাধ্যমে মানুষকে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব। ব্যাংকের মাধ্যমে বিমা পলিসি চালু অর্থাৎ ব্যাংকানস্যুরেন্স চালুর মাধ্যমে প্রিমিয়াম আয় দ্বিগুণ করা যায়, কিন্তু নীতিনির্ধারকেরা এ ব্যাপারে শুধু কথাই বলে যাচ্ছেন। কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না।
মোবাইলে ১০০ টাকা ফ্লেক্সি করলে ১০ টাকা যদি প্রিমিয়াম আকারে কেটে নেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়, তাতে সমাজের বড় একটা অংশকে স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনা সম্ভব।
তৃতীয় পক্ষের যে মোটরবিমা ২০১৮ সালে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে, তা আবার চালু করেও সংগ্রহ করা সম্ভব অন্তত বছরে তিন হাজার কোটি টাকা। বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব জীবন তহবিলের টাকায়।
বিমা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব সম্ভাবনা দেখছেন। কিন্তু সরকার প্রতিবছর ছোট ছোট বিমা পণ্য চালু করলেও সমাজের বেশিসংখ্যক মানুষকে ছুঁয়ে যাওয়ার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। আবার প্রচার–প্রচারণার ঘাটতি এবং এ খাতের কিছু কোম্পানির অনিয়মের কারণে বিমা খাত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও রয়েছে একধরনের অনাস্থা।
হতাশার এ চিত্র সামনে নিয়েই আজ ১ মার্চ মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আয়োজনে দেশব্যাপী জাতীয় বিমা দিবস পালনের আয়োজন করা হয়েছে। মূল অনুষ্ঠান হচ্ছে ঢাকার আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে এ দিবসের উদ্বোধন করবেন। এবারের প্রতিপাদ্য, ‘বিমায় সুরক্ষিত থাকলে, এগিয়ে যাব সবাই মিলে।’
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ।
বিমা খাতের অমিত সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে যথাযথ নীতি পদক্ষেপ নেওয়ার অন্যতম দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। বিভাগটির নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহর কাছে গতকাল জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬০ সালের ১ মার্চ আলফা ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে যোগ দেওয়ার স্মৃতি ধরে রাখতেই আজকের দিনটিকে জাতীয় বিমা দিবস ঘোষণা করে সরকার। স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশে ব্যাংকের চেয়েও বিমা কোম্পানির সংখ্যা বেশি। ব্যাংক আছে ৬১টি, বিমা আছে ৮১টি।
আওয়ামী লীগ সরকার কয়েক দফায় উদার হস্তে বিমা কোম্পানির লাইসেন্স দিয়েছে। কিন্তু আর্থিক খাতের মধ্যে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার যেভাবে এগিয়ে গেছে, বিমা খাত সেভাবে পারেনি। অথচ বঙ্গবন্ধুর চাকরিজীবনের সঙ্গে এ বিমা খাত জড়িত।
বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি শেখ কবির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিমা খাতকে এগিয়ে নিতে যথাযথ নীতি পদক্ষেপের অভাবটাই বড় সংকট। পুরো খাতটি অবিকশিত অবস্থায় পড়ে আছে। সরকারের সুদৃষ্টি থাকলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যেই বিমা খাত তার সক্ষমতা দেখাতে পারবে।’
দুর্নীতি ও আস্থার সংকট
বিমা খাতে দুর্নীতির অভিযোগ বরাবরই ছিল। আরও ছিল বিমা দাবি পরিশোধ না করার। ছিল কমিশন প্রথার অপব্যবহার। এসব অভিযোগ এখনো আছে। একদিকে কারখানায় আগুন লাগিয়ে বিমা দাবি করার অভিযোগ আছে, আরেক দিকে আছে পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও গ্রাহকদের পাওনা বুঝিয়ে না দেওয়ার। আরও আছে কর ফাঁকি ও ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ।
জীবনবিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ডেল্টা লাইফ ও ফারইস্ট ইসলামী লাইফ দুটি বড় কোম্পানি। দুর্নীতির কবলে পড়ে দুটি কোম্পানিই এখন খারাপ অবস্থায় আছে।
বিমা খাতের আরেক বড় সমস্যা আস্থার সংকট। এ খাতের প্রতি মানুষের আস্থা তুলনামূলক কম। জীবনবিমার পলিসি বিক্রি করা হয় এখনো পুরোনো পদ্ধতিতে। মারা গেলে পরিবারের সদস্যরা টাকা পাবেন, এ ধারণার সঙ্গেই অনেক মানুষ একমত নন। মানুষ চায় বেঁচে থাকতে কীভাবে জীবনের ঝুঁকি কমানো যায়।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এম মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘কমিশন প্রথার অপব্যবহার কমছে। আর দুর্নীতির অভিযোগ ও অনাস্থা বরাবরই ছিল।বিমা দাবি পরিশোধ না করারও একটা প্রবণতা আছে কিছু কোম্পানির। আমরা চেষ্টা করছি পুরো বিমা খাতকে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মধ্যে আনতে। এটা করা গেলে খাতটি অনেকটাই শৃঙ্খলার মধ্যে আসবে।’
দুর্বল নিয়ন্ত্রক সংস্থা
বিমা খাতকে গুরুত্ব দিতেই বিমা অধিদপ্তর বিলুপ্ত করে সরকার ২০১১ সালে গঠন করে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (আইডিআরএ)। কিন্তু সংস্থাটিতে নেই পর্যাপ্ত জনবল। ফলে ১১ বছর ধরে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি চলছে অসম্পূর্ণভাবে।
সংস্থাটির মধ্যম পর্যায়ে প্রেষণে বিমা খাতের বাইরের লোক নিয়োগ দিয়ে কাজ চালানোর চেষ্টা করে আসছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অতি গুরুত্বপূর্ণ দুটি (লাইফ সদস্য ও নন–লাইফ সদস্য) পদ খালি চার থেকে পাঁচ বছর ধরে। অবসরপ্রাপ্ত কোনো সরকারি কর্মচারী বিমা বিষয়ে অভিজ্ঞ থাকলে এত দিনে এ দুই পদও শূন্য থাকত না বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
দেশের ৬১টি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের রয়েছে সাত হাজারের মতো কর্মকর্তা-কর্মচারী। আর শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন ৩০০ জনের কাছাকাছি, আর আইডিআরএর জনবল মাত্র ৫০ জন, যাঁরা আবার চাকরি না থাকার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
এ বিষয়ে মেঘনা লাইফ ইনস্যুরেন্সের চেয়ারম্যান নিজামউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেহারা এমন দীনহীন হতে পারে না, যে চেহারা আইডিআরএর। এ সংকটটাই আমার কাছে বড় মনে হয়।’
বিমা খাতের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে নিজামউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘একটি শিশু জন্মের পর থেকেও বিমা করা যায়, আমাদের এখানেও তা সম্ভব। আর এটা ঠিক, বিমা পণ্য বিক্রিতে আমরা এখনো মান্ধাতার যুগেই আছি। তবে ইউরোপের বিমাপণ্য ও এগুলো বিক্রির ধরন অনুসরণ করে একটু একটু বদলাচ্ছি।’
বিমা খাতে অর্থ মন্ত্রণালয় যেন ‘কিল মারার গোসাঁই’
শুধু ব্যাংক আর পুঁজিবাজার নয়, আর্থিক খাতের অন্যতম অংশ বিমা খাত। কিন্তু ৫০ বছর বয়সী বাংলাদেশ এ খাতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে পিছিয়ে। ‘দুর্ভাগ্যজনক’ শব্দের বদলে খাতটির প্রতি নীতিনির্ধারকদের চরম অবহেলা ও নীতি প্রণয়নে দক্ষতার অভাব বলাটাই এখানে জুতসই হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
দক্ষতার অভাবটা রয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনো, যখন স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে নাম কাটাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। উদ্বেগের দিক হলো, বিমা খাতে দুরবস্থা দূর করার মাথাব্যথা কারও নেই।
দেশের বিমা খাত কতটা পিছিয়ে, তা আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারসের (পিডব্লিউসি) একটি হিসাবে পরিষ্কার। তারা বলছে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বিমা খাতের অবদান ছিল (প্রিমিয়াম আয়) মাত্র শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর বিমা প্রিমিয়ামে মাথাপিছু ব্যয় বছরে ৯ মার্কিন ডলার (৭৭৪ টাকা), যা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম। লজ্জাটা একটু পেতেই হয় এ কারণেও যে দেশে সরকারি দুটি সংস্থাসহ ৮৩টি বিমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাকে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি বলেও মনে করা হয়।
বেসরকারি খাত ছাড়া বিমায় ভালো কিছু সম্ভব নয়
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এম মোশাররফ হোসেন গত রোববার প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিমা খাতের নানা দিক তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফখরুল ইসলাম।
প্রথম আলো: স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসেও বিমা খাতের এমন দুরবস্থা কেন?
শেখ কবির হোসেন: আর্থিক খাতের মধ্যে বিমা একটা গুরুত্বপূর্ণ খাত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরাসরি জড়িত ছিলেন এ খাতের সঙ্গে। ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ খাতকে আলাদা নজরে দেখে থাকেন। যা–ই হোক, এটা সত্য যে বিমা খাতে দুরবস্থা আছে। তবে আগে আরও বেশি ছিল। ধীরে ধীরে হলেও দুরবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটছে।
প্রথম আলো: কোথায় উন্নতি হচ্ছে, মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) তো বিমা খাতের অবদান তো কমছে।
শেখ কবির: ব্যাপারটাকে এমনভাবেও ব্যাখ্যা করা যেতে পারে যে জিডিপির আকার যেভাবে বড় হচ্ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বড় হতে পারছে না বিমা খাত। তবে দিন আসছে। একদিন বিমা খাতই হবে আর্থিক খাতের ভবিষ্যৎ। যদিও তার আগে সরকারের পক্ষ থেকে অনেক কাজ করার আছে। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাচ্ছি। উন্নয়নশীল দেশের জন্য উন্নয়নশীল মানের বিমা খাত তৈরির জন্যও আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।
প্রথম আলো: এই ‘আমাদের’ বলতে কাদের বুঝিয়েছেন?
শেখ কবির: খাত–সংশ্লিষ্ট সবাইকে। প্রধানত অর্থ মন্ত্রণালয়, বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সদস্যদের বুঝিয়েছি। সবাইকেই যার যার জায়গা থেকে ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে একটা কথা হলফ করে বলতে পারি, নিয়ন্ত্রক সংস্থা দুর্বল থাকলে একটি খাত বেশিদূর এগোতে পারে না।
প্রথম আলো: আইডিআরএ কি দুর্বল নিয়ন্ত্রক সংস্থা?
শেখ কবির: দুর্বলই তো। চেয়ারম্যান ও চার সদস্য নিয়ে আইডিআরএর কাঠামো। প্রায় পাঁচ বছর হতে যাচ্ছে আইডিআরএর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই সদস্য পদে (লাইফ ও নন–লাইফ) নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। সংস্থাটিতে এখন অফিসার ও জুনিয়র অফিসারসহ ৫০ জনের মতো লোক চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন। তাঁরা এরই মধ্যে দক্ষতা অর্জন করেছেন। তাঁদের চাকরি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ একটি বিশেষ আদেশ দিয়ে পাকা করতে পারে। বিশেষ আদেশে ফাঁসির আসামিদের পর্যন্ত ক্ষমা করে দেন রাষ্ট্রপতি। এই সংস্থায় যাঁরা চাকরি করছেন, তাঁরা তো আর আসামি নন। কয়েকজন আছেন আবার বিভিন্ন ক্যাডার থেকে প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া। তাঁরা জ্ঞানী ও পারদর্শী, এতে সন্দেহ নেই। তবে প্রেষণে আসা লোকেদের অত দরদ থাকে না, যতটা থাকে সংস্থার নিজস্ব লোকদের। বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে আইডিআরএকে শক্তিশালী করা ও বিমা একাডেমি গঠনই হচ্ছে এখন প্রধান কাজ।
প্রথম আলো: সমাধান কারা করবে? আপনাদেরও তো দায়িত্ব আছে।
শেখ কবির: অর্থ মন্ত্রণালয় করবে। এরপর করবে আইডিআরএ। আমাদের দায়িত্ব আমরা পালন করছি। তবে আমাদেরও দোষ আছে। কেউ কেউ সময়মতো বিমা দাবি পরিশোধ করতে চান না। এর বদনাম গিয়ে পড়ে গোটা বিমা খাতের ওপর। আইডিআরএর অস্থায়ী লোকদের স্থায়ী করার ব্যাপারে গতবার বিমা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় কথা বলেছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যদি কাজ না হয়, কী আর বলব? বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডেও নিয়োগ নিয়ে একই ধরনের সমস্যা ছিল। বিশেষ যোগ্যতা অর্থাৎ অভিজ্ঞতাকে আমলে নিয়ে প্রয়োজনে শর্ত শিথিল করে হলেও তাঁদের নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।
প্রথম আলো: বিমা খাতের উন্নয়নে একটি পদক্ষেপের কথা বললে আপনি কি বলবেন?
শেখ কবির: সবকিছু বিমার আওতায় আনতে হবে এবং এগুলো যথাযথ নজরদারির মধ্যেও রাখতে হবে। সরকারি সম্পত্তির বিমা করার বাধ্যবাধকতা আছে। অনেকেই তা করেন না। এটা দেখার কেউ নেই। একটি ভবন নির্মাণের আগে যেমন রাজউক থেকে নকশা অনুমোদন, মাটি পরীক্ষা ও ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন নিতে হয়, তেমনি বিমাও করা থাকতে হবে। নইলে ভবন নির্মাণ করা যাবে না বলে বাধ্যবাধকতা আনতে হবে। আবার আগে তৃতীয় পক্ষের বিমা ছিল বলে বিমা পলিসি ছাড়া রাস্তায় গাড়ি বের হতে পারত না। এখন কোনো পলিসিই লাগছে না। পলিসি ছাড়াই গাড়ি বের করা হচ্ছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই। একসময় বাসে লেখা থাকত ‘যাত্রীদের জীবন বিমাকৃত’, এখন থাকে না। কারণ, এই বাধ্যবাধকতা অনেক আগেই তুলে নেওয়া হয়েছে। চাপিয়ে দিয়ে কোনো কাজ ভালো হয় না, আবার চাপিয়েও দিতে হয়। যেমন অনেক মানুষ কর দিতে চান না। কিন্তু চাপানো আছে বলেই কর দিতে বাধ্য হন তাঁরা।
প্রথম আলো: বিমা খাতে প্রায়ই অনিয়ম–দুর্নীতির কথা শোনা যায়। পুরো খাতকে স্বয়ংক্রিয়ব্যবস্থার আওতায় আনলে কি সেগুলো একটু কমত?
শেখ কবির: অবশ্যই কমত। স্বয়ংক্রিয়ব্যবস্থার আওতায় আনার কাজ হচ্ছে। দুঃখজনক যে তা হচ্ছে শুধু আ
ইডিআরএ, সাধারণ বীমা করপোরেশন, জীবন বীমা করপোরেশন এবং বিমা একাডেমিতে। বেসরকারি খাত যেখানে বিমা খাতের প্রধান, সেখানে এ খাতই থাকছে স্বয়ংক্রিয়ব্যবস্থার বাইরে।
প্রথম আলো: বিমা খাতের ভবিষ্যৎ কী?
শেখ কবির: এ খাতের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল, খুবই উজ্জ্বল। অর্থনীতিতে অবদানের দিক থেকে আর্থিক খাতের মধ্যে বিমা খাত একসময় ব্যাংক আর পুঁজিবাজারকেও ছাপিয়ে যাবে। তবে তার আগে আইডিআরএকে শক্তিশালী করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
বিমার তাজা খবর
Popular Posts
-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমা খাতের আরও উন্নয়নে জনগণের মধ্যে সচেতনতা জোরদার করা র আহ্বান জানিয়ে আজ মঙ্গলবার জাতীয় বিমা দিবসের উদ্বোধন করেছ...
-
জীবন বিমা খাতের একমাত্র রাষ্ট্রীয় বিমাকারী প্রতিষ্ঠান জীবন বিমা করপোরেশনের (জেবিসি) একটি আমানত কর্মসূচি রয়েছে। এর নাম ‘প্রমীলা ডিপিএস’। স্বল...
-
ফখরুল ইসলাম । বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এম মোশাররফ হোসেন গত রোববার প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিমা খা...